IIW : টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, ত্রিপুরা (TIUT) উচ্চশিক্ষার প্রসার, গবেষণা-সংস্কৃতির বিকাশ, শিল্প-শিক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সংযোগকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাডেমিক, গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। আগরতলায় অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণাগুলি করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর (ড.) রতন কুমার সাহা। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকবৃন্দ।
এই অগ্রগতি টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, ত্রিপুরার মাননীয় আচার্য এবং টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রফেসর সত্যম রায় চৌধুরীর দূরদর্শী নেতৃত্বেরই প্রতিফলন। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্পমুখী শিক্ষার প্রতি তাঁর অবিচল অঙ্গীকার বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় গুণগত শিক্ষা, গবেষণা, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা বিকাশ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সমন্বিত করে একটি শক্তিশালী শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ গড়ে তুলেছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপাচার্য প্রফেসর (ড.) রতন কুমার সাহা বলেন, জাতীয় অগ্রাধিকার এবং উদীয়মান শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমসাময়িক ও ভবিষ্যতমুখী শিক্ষাক্রম চালুর ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় নিরন্তর কাজ করে চলেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নমূলক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শিক্ষাগত উৎকর্ষতা এবং ফলাফলভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত স্কুল Outcome-Based Education (OBE) এবং Skillset: Theory to Practice গ্রন্থ (Book) প্রণয়ন ও প্রকাশ করেছে, প্রতিটি গ্রন্থই ISBN-নিবন্ধিত। এই প্রকাশনাগুলি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগত সম্পদ হিসেবে কাজ করবে এবং তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ব্যবহারিক প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে। একই সঙ্গে এগুলি জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-এর লক্ষ্য অনুসারে নির্দিষ্ট শিক্ষালাভের ফলাফল, দক্ষতা বিকাশের পথরেখা এবং শিল্পক্ষেত্র-উপযোগী সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান গবেষণা পরিমণ্ডল সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে মাননীয় উপাচার্য ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সফলভাবে আয়োজিত "R Programming and Statistical Data Analysis for Research Applications" শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসা এবং উদ্ভাবনী সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করছে।
স্কুল অফ ল'-এর ডিন অধ্যাপক রঞ্জন কুমার মিশ্র আইন শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, আদালত-ভিত্তিক অনুশীলন, আইনি গবেষণা, যুক্তি উপস্থাপন এবং অ্যাডভোকেসি দক্ষতা বিকাশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যা শিক্ষার্থীদের পেশাগত প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করবে।
স্কুল অফ হেলথ সায়েন্সেস অ্যান্ড ট্রান্সলেশন রিসার্চ-এর ডিন-ইন-চার্জ ড. সুমন কল্যাণ নাথ স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও অ্যালায়েড হেলথকেয়ার শিক্ষার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের উপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দক্ষ, মানবিক এবং প্রযুক্তিসম্পন্ন স্বাস্থ্যপেশাজীবী তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। গবেষণা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং সমাজমুখী স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
আসন্ন শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পারফর্মিং আর্টস বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কর্মসূচি, যেখানে নৃত্য, নাটক এবং সংগীত অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই পাঠ্যক্রমগুলি ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের পাশাপাশি শিল্প ও সৃজনশীল ক্ষেত্রকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করেছে বি.টেক. ইন ফুড টেকনোলজি, যা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা, গুণমান নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে প্রণীত। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় এম.টেক, কর্মসূচিও সম্প্রসারিত করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং (Artificial Intelligence & Machine Learning), ডেটা সায়েন্স (Data Science) এবং ক্লাউড কম্পিউটিং ও বিগ ডেটা (Cloud Computing & Big Data)-এর মতো আধুনিক বিষয়ে বিশেষায়িত এম.টেক. (CSE) শিক্ষাক্রম চালু করা হয়েছে।
শিল্পক্ষেত্র ও কর্মরত পেশাজীবীদের পরিবর্তিত চাহিদা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করেছে এক্সিকিউটিভ এম.বি.এ.। শিক্ষাগত মান অক্ষুন্ন রেখে নমনীয় কাঠামোয় পরিচালিত এই কোর্স পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং আগ্রহী ব্যবসায়িক নেতৃত্বকে উন্নত ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেবে।গবেষণা ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বর্তমানে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, মাইক্রোবায়োলজি, বায়োটেকনোলজি, গণিত, ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ইংরেজি, আইন, বাণিজ্য এবং ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পিএইচ.ডি. কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এই সম্প্রসারণ উচ্চমানের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং জ্ঞানসৃষ্টির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিশ্রুতিকেই প্রতিফলিত করে।
আন্তর্জাতিকীকরণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে Department of Global Affairs and International Relations। এই প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইনচার্জ ড. শিলাদিত্য মুন্সী বলেন যে বিভাগটি আন্তর্জাতিক অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা, ছাত্র-শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি, যৌথ গবেষণা এবং অন্যান্য বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আন্তর্জাতিক অ্যাকাডেমিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উচ্চ শিক্ষাগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় তার সাংবিধানিক অনুমোদন, পেশাগত স্বীকৃতি, প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং জাতীয় শিক্ষাগত সংযুক্তির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে। টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) কর্তৃক স্বীকৃত এবং Association of Indian Universities (AIU)-এর সদস্য। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পাঠ্যক্রম All India Council for Technical Education (AICTE), বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI) এবং ত্রিপুরা সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত। গবেষণা ক্ষেত্রে বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়কে ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীন Department of Scientific and Industrial Research (DSIR) কর্তৃক Scientific and Industrial Research Organization (SIRO) হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শক্তিশালী সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। জাতীয় পর্যায়ে Tripura University, Central Agricultural University (CAU), National Informatics Centre Services Incorporated (NICSI) of MeitY, Govt. of India, Directorate of Biotechnology, Govt. of Tripura, এবং অন্যান্য অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মৌ (MoU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভিয়েতনামের Hoa Sen University, Hanoi University of Industry এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Bowie State University-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। শিল্পক্ষেত্রে Infosys, 1Stopai, Bharat Chamber of Commerce এবং অন্যান্য পেশাদার সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপ, শিক্ষক বিনিময় এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের Training and Placement Cell শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে ইন্টার্নশিপ, প্লেসমেন্ট ড্রাইভ, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, শিল্প-সংযোগ কর্মসূচি এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অ্যাকাডেমিক এবং শিল্প সহযোগিতার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং বিদেশে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় ইন্টার্নশিপ ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যও বিশ্ববিদ্যালয় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি সহায়তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সরকারি বৃত্তি প্রকল্পের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মেধাভিত্তিক এবং আর্থিক প্রয়োজনভিত্তিক বৃত্তির সুযোগ রয়েছে, যার ফলে আর্থ-সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন।
ছাত্রকল্যাণ বিভাগের ডিন অধ্যাপক দিলীপ সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় তার স্যাটেলাইট ভিলেজ হিসেবে মহেশখোলা গ্রামকে গ্রহণ করেছে, যেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নিয়মিত উন্নয়নমূলক, শিক্ষামূলক, স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক এবং জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের Legal Aid Clinic-এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে বিভিন্ন আইনি বিষয়ে সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণবন্ত অ্যাকাডেমিক ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক পরিবেশের অংশ হিসেবে নিয়মিত প্রকাশিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউজলেটার TIUT Times, যেখানে অ্যাকাডেমিক, গবেষণা, ছাত্রকল্যাণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে প্রকাশিত হয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা Mandala, যা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সৃজনশীল, বৌদ্ধিক এবং গবেষণাধর্মী চিন্তাভাবনা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেকচার, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, বাণিজ্য, ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতি, কৃষি, মৎস্যবিজ্ঞান, আইন, বায়োটেকনোলজি, মাইক্রোবায়োলজি এবং অ্যালায়েড হেলথকেয়ার সায়েন্সেসসহ বিভিন্ন বিষয়ে পাঠক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নতমানের শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ধারাবাহিকভাবে অবকাঠামো, গবেষণাগার, গবেষণা সুবিধা এবং ছাত্র-সহায়তা পরিষেবায় বিনিয়োগ করে চলেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য জানান যে বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃবিষয়ক শিক্ষা সম্প্রসারণ, গবেষণা-পরিমণ্ডল শক্তিশালীকরণ এবং উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে অঙ্গীকারবদ্ধ। আগামী দিনে একটি পৃথক Department of Fine Arts প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়াতে IoT and Drone Laboratory, Intel Unnati Lab এবং Salesforce Data Science Centre of Excellence প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন, অধিক সংখ্যক পিএইচ.ডি. গবেষণা ও অর্থায়িত গবেষণা প্রকল্প, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞানসৃষ্টির উপর অধিক গুরুত্বারোপের মাধ্যমে গবেষণা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হবে।
মাননীয় উপাচার্য আরও জানান যে, সাইবার সিকিউরিটি, Outcome-Based Education (OBE), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের মতো সমসাময়িক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মশালা, সেমিনার, সম্মেলন এবং অ্যাকাডেমিক কনক্লেভ আয়োজন করা হবে। আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি জাতীয় স্তরের Moot Court Competition আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষণ পদ্ধতি, অ্যাকাডেমিক নেতৃত্ব, গবেষণা সংস্কৃতি এবং পেশাগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত Faculty Development Programme (FDP), প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।
তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে, টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, ত্রিপুরা, ত্রিপুরার শিক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অর্থবহ অবদান রাখতে এবং রাজ্যকে গুণগত উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলে পরিচালিত স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পিএইচ.ডি. এবং পেশাভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষতা, গবেষণার সুযোগ, বৃত্তি সুবিধা, শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সংযোগ এবং কর্মমুখী শিক্ষার সমন্বিত পরিবেশে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।
ক্রমবর্ধমান অ্যাকাডেমিক পাঠ্যক্রম, শক্তিশালী গবেষণা-পরিমণ্ডল, শিল্প-শিক্ষা সংযোগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গুণগত শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকারের মাধ্যমে টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, ত্রিপুরা উত্তর-পূর্ব ভারতের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে একটি রূপান্তরমূলক শক্তি হিসেবে তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করে চলেছে। ত্রিপুরার সঙ্গে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং তাঁর মুক্ত, মানবিক ও সৃজনশীল শিক্ষাদর্শকে অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করে টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, ত্রিপুরা তার ভবিষ্যৎ পথচলা নির্ধারণ করছে। জ্ঞান, গবেষণা, সংস্কৃতি, উদ্ভাবন ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই শিক্ষাদর্শকে ধারণ করেই বিশ্ববিদ্যালয় গুণগত উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা বিকাশ এবং সমাজমুখী জ্ঞানচর্চার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
0 Comments