শনিছড়া ফরেস্ট বিট অফিসে জাকিয়ে বসেছে দুর্নীতির ঘুঘুর বাসা।



 IIW : বিকাশ ভট্টাচার্য, নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর :- শনিছড়া ফরেস্ট বিট অফিসে জাকিয়ে বসেছে দুর্নীতির ঘুঘুর বাসা। একের পর এক দুর্নীতিতে নাম জড়িয়ে পড়ছে ইনচার্জ রামকুমার সিনার। নিজের ফরেস্ট বিট এলাকাতে দু দুটি অবৈধ বালি তোলার মেশিন বসানো হয়েছে। কিন্তু সেই বিষয়ে রামকুমার বাবুকে জিজ্ঞেস করলে তিনি আকাশ থেকে পড়েন। নিজে কিছুই জানেন না বলে এড়িয়ে যান। অথচ প্রায় বছর খানেক ধরে শনিছড়া থেকে দুটি মেশিনের মাধ্যমে প্রতিদিন গাড়ি গাড়ি বালি উত্তর জেলাতে বিভিন্ন কাজে বিক্রি করা হচ্ছে। তাতে যেমন অবৈধ ব্যবসা জাঁকিয়ে বসেছে তেমনি জিপি না কেটে সরকারি রাজস্বকেও মার খাওয়াচ্ছেন। আজ সেই বিষয়ে ইনচার্জ রামকুমার সিনহাকে জিজ্ঞেস করা হলে উনি জানান আমি কিছুই জানি না তবে সেই বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের সামনে কিছুই বলতে রাজি হননি। তিনি উনার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ রেঞ্জ অফিসের রাস্তা দেখিয়ে দেন। কিন্তু সূত্রের খবর ওনার সঙ্গে হরিহর আত্মার সম্পর্ক রেখেই মাফিয়ারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নিজে কিছুই জানেন না বলে গা ছাড়া মন্তব্য করেন কিন্তু ক্যামেরার সামনে কিছুই বলতে রাজি হননি।আর এদিকে একের পর এক দুর্নীতির চরমসীমায় গিয়ে পৌঁছেছে শনিছড়া ফরেস্ট বিট অফিসটি। তাই অবৈধ ভাবে বসানো মেশিন দুটির সম্বন্ধে ফরেস্ট কর্তৃপক্ষের কোন প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও দেখার বিষয় জেলার ফরেস্ট আধিকারিকরা সেই বিষয়ে কতটুকু নজর দেন। সাংবাদিকদের ক্যামেরায় মেশিন দুটি ধরা পড়লেও নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখেছেন ইনচার্জ বাবু। শুধু তাই নয় বিট এলাকায় কোন জিপি না কাটার ফলে বালি সহ বাঁশ অবাধে পাচার করা হচ্ছে আর তাতে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব ফাঁকা হচ্ছে। তাতে কি নিজের তো পকেট বাড়ি হচ্ছে। অপরদিকে ট্রানজিট পারমিটেও রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। দেখা যাচ্ছে যাদের নামের ফরেস্ট ট্রেড লাইসেন্স নেই তাদের নামেও টিপি ইস্যু করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে ইনচার্জ রামকুমার সিনহা স্থানীয় কিছু শাসক দলের কতিপয় নেতাদের মেনেজ করে নিজের দুই নম্বরী কামাই বাণিজ্য জ্যম্পেশ করে চলছেন। তাছাড়া প্রতিদিন বাই সাইকেলে করে ফরেস্ট এলাকা থেকে শত শত ফুট সেগুন কাঠ খোলা বাজারে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে অভিযোগ, প্রথম দিকে ইনচার্জ বাবু সেই পাচারকারীদের ধাওয়া করে সাইকেল সহ অনেক কাঠ সিজ করেছেন কিন্তু বর্তমানে এদের সঙ্গে মাসোহারা হওয়ায় খুল্লাম খুল্লা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। গোপন সূত্রের খবর প্রতি মাসে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার দুই নম্বরি রফাদফা করা হয়। এখন প্রশ্ন সেই কামাই বাণিজ্যের অর্থ কি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে, নাকি জেলার বন আধিকারিকরা শীতঘুমে রয়েছেন। যদিও ইনচার্জ বাবু কিছুই জানেন না বলে হাত-পা গুটিয়ে রেখেছেন তাহলে ওনার বিট এলাকার খবর রাখবে কারা। জেলার বন আধিকারিক ও রাজ্যের বন দপ্তরের সে দিকের প্রতি কোন নজর নেই অথচ সরকার পরিবর্তনের পর থেকে অবাধে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে প্রতিটি দপ্তর এমনকি বনদপ্তরও। আর বাদ জাননি ইনচার্জ বাবুও, স্থানীয় বিজেপির মাতব্বরদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

Post a Comment

0 Comments