শেষমেশ ছেলের হাতে আক্রান্ত মা।

IIW : নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর :- ঘটনার বিবরণে প্রকাশ আরতিদেবীর স্বামী ও বড় ছেলে মারা যায় কয়েক বছর পূর্বে। কিন্তু রেশন কার্ডে তাদের নাম ছিল। দ্বিতীয় ছেলে অজয় মালাকারের স্ত্রী ও কন্যা সন্তানের নাম রেশন কার্ডের তোলার জন্য খাদ্য দপ্তরে কাগজপত্র নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করেন আরতীদেবী। যেহেতু খাদ্য দপ্তরের অফিস ধর্মনগরে তাই নিজ ভাইয়ের বাড়িতে থেকে অফিসের কাজকর্ম সারছিলেন তিনি। ছেলে অজয় জানতে পারে যে মায়ের নামে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর বরাদ্দ হয়েছে । যার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রয়োজন। সে ঘরে এসে তন্ন তন্ন করে কাগজপত্র খুঁজে পায়নি। তখন সে তার মার সাথে যোগাযোগ করে। মা আরতি দেবী ফোন পেয়ে সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে বাড়ি চলে আসেন বৃহস্পতিবার দুপুরে, মাকে দেখে রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে যায় ছেলে। মাটিতে ফেলে লাথি, ঘুষি, কিল, চড় মারতে থাকে। তার ক্রোধ এত বেড়ে যায় যে রান্নার জন্য ব্যবহৃত জ্বালানি কাঠ দিয়ে আরতী দেবীর পায়ে সজোরে আঘাত করে পা দ্বিখন্ডিত করে দেয়। আরতিদেবীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ছেলে অজয়ের হাত থেকে মা আরতীকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে মাকে দেখতে হাসপাতালে আসে গুণধর পুত্রও। মহিলার অবস্থা গুরুতর দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোমালি নাথ ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে রেফার করেন। ছেলে অজয় মালাকার নিজে স্বীকার করেছে যে সে মায়ের উপরে হাত তুলেছে।আরো জানা যায় গুণধর পুত্র অজয় মালাকার মায়ের ভরণ পোষণ করত না। দিনের পর দিন উপোস থাকতে হতো গর্ভধারিনী মা আরতীকে। যদিও এর পূর্বে ওই গুণধর পুত্র তার বাবাকেও এভাবে মারধর করায় স্থানীয় পঞ্চায়েত স্তরে অনেকবার সালিশি সভা করে বিচার প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু এবার গর্ভধারিনী মায়ের উপর অত্যাচারের সীমা ছাড়িয়ে গেল। তবে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মহলের দাবী এরকম অপদার্থ পুত্রকে গ্রেফতার করে কঠোরতম শাস্তি প্রদান করুক পুলিশ প্রশাসন।

Post a Comment

0 Comments